Categories
পরিবেশ ও নদী দূষণ

সিদ্ধিরগঞ্জ -শীতলক্ষ্যা ওয়াকয়ে । সকলের পছন্দ । মেয়র কে ধন্যবাদ

siddhirganj-sitolokkha-riveসূর্যটা উঠি উঠি করছে ।

সোনালী রোদের আভায় পূর্বাকাশ ধীরে ধীরে আলোকিত হচ্ছে ।

মৃদু ঠান্ডা বাতাস বইছে । বাতাসে নদীর পানিতে ছোট ছোট ঢেউ সৃষ্টি হয়ে দূরে দূরে সরে যাচ্ছে । পুর্বাকাশের উদীয়মান সূর্য প্রতিফলিত হচ্ছে ধীরে ধীরে বহমান পানির প্রবাহ তে ।

বর্নিত রাস্তাটি সিদ্ধিরগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড় ঘেষে অবস্থিত । রাস্তাটি উত্তরে কাচপুর ব্রীজ এর পুর্ব অংশ থেকে শুরু হয়ে দক্ষিনে সিদ্ধিরগঞ্জ বাজার এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত । ইট বিছানো রাস্তায় নদীর পার্শ বরাবর দেয়া হয়েছে সিমেন্টের ঢালাই করা রেলিং । রাস্তার গড় প্রশস্ততা ১০ ফুট ।

রাস্তার পূর্ব পাশে (নদীর পাশে) তৈরি করা হয়েছে বেশ কয়েকটি ঘাট এবং পশ্চিম পাশে বসার স্থান । রাত্রে পথ চলা সুগম করার জন্য রাস্তার পাশে কিছু দূর পর পর স্থাপন করা হয়েছে বৈদ্যুতিক আলোর খুটি । এই রাস্তাটি শুধু যে সিদ্ধিরগঞ্জের অন্যতম সৌন্দর্য বর্ধক হিসেবে কাজ করছে তা নয়, এটি যথাক্রমে উত্তর থেকে শুরু করে, উত্তর আটি, আটি, উত্তর আজিবপুর, মধ্য আজিবপুর এবং সর্ব দক্ষিনে সিদ্ধিরগঞ্জ বাজার কে সংযুক্ত করেছে । এটি সিদ্ধিরগঞ্জের গুরুত্তপূর্ন আভ্যন্তরীন রাস্তা গুলোর মধ্যে অন্যতম ।

bdnewsnet.comdsd

নদীর পাড়ের রেলিং দেয়া উত্তর-দক্ষিন বরাবর দ্বিমুখী রাস্তায় হেটে চলেছে প্রাতভ্রমনে বের হওয়া মানুষজন। এদের কে দেখে যে কারো মনে হবে, সকালের স্নিগ্ধ প্রাকৃতিক পরিবেশে নদীর পাড়ে হাটা শুধুই যে শারিরীক ভাবে উপকারী তা নয়, এটা মানসিক প্রশান্তি আনয়নের প্রভাবকও বটে ! বেলা বাড়ার সাথে সাথে প্রাত ভ্রমনে বের হওয়া নারী-পুরুষের সাথে আরো এক দল মানুষ কে দেখা যায় ।

এরা কর্মজীবি মানুষের দল । কর্মস্থানে ছুটে চলেছেন এরা পায়ে হেটে, সকালের স্নিগ্ধ রোদে আলোকিত পথ ধরে ।

 

প্রবাহমান নদীর পাশে অবস্থিত এই পথটির বিকাল বেলার চিত্র আরো সুন্দর । পড়ন্ত বেলায় এখানে জমে উঠে আড্ডা । সকল ধরনের মানুষ এই সময়ে নদীর পাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে চলে আসেন ।

উঠতি বয়সের তরুনদের আড্ডা, মধ্যবয়সী নারী-পুরুষের আয়েশী হাটা, ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের ঝালমুড়ি অথবা বাদাম কিনে খাওয়ার হিড়িক এবং রাস্তার উত্তর-পশ্চিম পাশের অনেকটা অংশ জুড়ে বিস্তৃত গাছের সারির ফাকে ফাকে জমে থাকা পড়ন্ত বিকেলের সৌন্দর্য – এ যেনো মানুষের সাথে প্রকৃতির এক অপূর্ব মিলন মেলা ।

 

দিনমনি পাটে বসার সময় কর্মজীবি মানুষের দলটা কে আবার চোখে পড়বে । কাজ শেষে গন্তব্যে ফিরে চলার পথে তারাও মুগ্ধ হন অস্তগামী সুর্যের আলোর ছটায়, সন্ধ্যার আলো-আধারীর খেলায় ।

bdnewsnet.comdsd

 

Categories
অভিযোগ পরিবেশ ও নদী দূষণ সামাজিক অবস্থা

সিদ্ধিরগঞ্জের বেশির ভাগ কারখানাতেই ইটিপি নেই

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় রয়েছে ছোট-বড় কয়েক হাজার কারখানা। ডাইং, নিটিং, টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন কারখানায় তরল বর্জ্য পরিশোধন করার লক্ষে এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প¬ান্ট (ইটিপি)থাকার বাধ্যকতা থাকলেও বেশির ভাগ কারখানাতেই এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প¬¬ান্ট (ইটিপি) নেই। যাদের আছে, তারা এর যথাযথ ব্যবহার না করে কর্তৃপক্ষকে উৎকোচের বিনিময় ম্যানেজ করে সরাসরি নদীতে বা খালে বর্জ্য ফেলছে। এতে খালের পানি শীতলক্ষ্যা নদীতে গিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। হাজার-হাজর জনতা পানিবাহীত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। মাছ শুন্য হচ্ছে নদী। অথচ সংশি¬ষ্ট প্রশাসন সব দেখেও রহস্য-জনক কারনে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে নিরব ভুমিকা পালন করছে। কল-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজিলার উপর দিয়ে বয়ে চলা শীতলক্ষ্যা নদী। এতে পানি কালো বর্ণ ধারণ করেছে, নদী হারিয়েছে নাব্যতা। বিষাক্ত বর্জ্যের কারণে নদীর মাছ মরে গেছে। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, কারখানাগুলোয় ইটিপি সুবিধা চালু আছে। এতে পরিবেশ কিংবা পানি দূষণের সম্ভাবনা নেই। এ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা অধিকাংশ শিল্প কারখানায় নেই কোন বর্জ্য শোধনাগার বা অ্যাফ্লুয়েন্ট ট্রিঁটমেন্ট প¬্যান্ট (ইটিপি)। যার কারণে উপজেলার ডিএনডি বাধঁসহ বিভিন্ন কৃষি জমিগুলো হয়ে পড়েছে চাষ অযোগ্য। সরকারি বিধি ও নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি শিল্প কারখানা স্থাপন করার সাথে সাথে বর্জ্য শোধনাগার বা অ্যাফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প¬্যান্ট (ইটিপি) স্থাপন করা বাধ্যতামূলক। অথচ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সদর উপজেলায় গড়ে উঠা অধিকাংশ কারখানায় বর্জ্য শোধনাগার বা অ্যাফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প¬্যান্ট (ইটিপি) নেই। তবে হাতে গুনা অল্প সংখ্যক কারখানায় ইটিপি থাকলেও ১’লিটার বর্জ্য পরিশোধন করতে ৩টাকা খরচ হয়। প্রতিদিন গড়ে ৬০’হাজার লিটার পানি পরিশোধিত করতে খরচের মাত্র অতিরিক্ত হওয়ায় পরিবেশ কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই কারখানা কর্তৃপক্ষ তরল বজর্হ্য সরাসরি নদীতে ফেলছে বলে বিশ্বস্থ সুত্রে জানা গেছে। আর এ কারনেই ইটিপির যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না বা কর্তৃপক্ষ এর ব্যবহার করছে না। একটি বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, ইটিপি অধিকাংশ সময় বন্ধ রাখা হয় এর কারণ এটা ব্যবহার করলে অধিক অর্থ খরচ হয়। এক কথায় টাকা বাঁচানোর জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষ প¬্যান্ট অধিকাংশ সময় বন্ধ রাখে। এদিকে প¬্যান্ট চালানোর ব্যাপারে কারখানা কর্তৃপক্ষের কোন ভূমিকা না থাকার করণে কারখানাগুলোর বর্জ্য সরাসরি খাল, বিল, নদী, নালা ও ফসলি জমির উপর গিয়ে পড়ছে। নদী-নালা, খাল-বিলে বর্জ্য পড়ার কারণে দেশীয় প্রজাতির মাছ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আর নষ্ট হচ্ছে জমির উবর্রতা। খাল বিলের পানি ঘন কালো নীল বণের্র বর্জ্য পদার্থ মিশে তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রায় সর্বক্ষণ বিলের ফসলি জমির মাটি কেমিক্যাল মিশ্রিত পানিতে আবৃত হয়ে ফাঁপা অবস্থায় থাকে। যার কারণে জমিতে ফসল উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। কোন কোন বিলে ধান উৎপাদন প্রায় বন্ধের পথে। নদী নালার মাছ এলাকাবাসী আর খেতে পারছে না। বিশেষ করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় বসবাসকারী শতকারা ৬০ভাগ লোকই কোন না কোন ভাবে পানি বাহীত রোগে আক্রন্ত রয়েছে।