Categories
আইন শৃঙ্খলা

এক সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই লজ্জিত করল বাংলাদেশ পুলিশের ইমেজ কে – দিন বদলের সময় আসবে কবে

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে ৩১ আগস্ট রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পাশে সোর্স নজরুল ভাড়া বাসায় ডেকে এনে এক আসামীর দুই স্ত্রীকে  শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ ঠে  আসে  ।

পরদিন এই দুই মহিলা সাংবাদিক ও বিভিন্ন আইনজীবীদের কাছে অভিযোগ করলে । কালের কন্ঠ ও অনলাইনে এই খবরে তোলাপার শুরু হয়ে যায় । ডাকাতি মামলায় মিজমিজি দক্ষিণপাড়া  থেকে একজনকে গ্রেফতার করে ৩১ আগস্ট রিমান্ডে নেয় পুলিশ। ওই রাতেই রিমান্ডে নির্যাতন করা হবে না শর্তে ২৫ হাজার টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় দুই সতীনকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে এসআই আতাউর ও তার দুইজন সোর্স নজরুল এবং শুভের বিরুদ্ধে। বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে গঠন করা হয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি। শুক্রবার আটক করা হয় দুইজন সোর্স নজরুল ও শুভকে।

 

এই ঘটনার সত্যি মিথ্যা কখন বের হয়ে আসবে না ।  কিন্তু শুধুমাত্র একজন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশের এস আই এর কারনে আজ সমগ্র প্রতিষ্ঠানটি সোসাল  মিডিয়াতে  পুলিশ এর নামে মানুষ বিভিন্ন নেগেটিভ মন্ত্যব্য করছে । এই ঘটনায় এস আই আতাউর সরাসরি জড়িত ছিল না কি ছিল না তার থেকে গুরত্বপুরন । ইচ্ছার বিরুদ্ধে দুই  নারীর সম্ভ্রম কেড়ে নেবার মত উন্মাদনা কেন আমাদের মত মুসলিম দেশে আজো চলছে ।

 

আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সোর্স রা ইয়াবা সেবি কিংবা প্রত্যখ্য ভাবে এর ব্যাবসার সাথেই জড়িত । ক্রাইম দমন করতে গিয়ে , ক্রিমিনাল দের সাথে থেকে যখন আইন রক্ষাকারী করে বসে মানবের হিন্যতম অপরাধ তখন প্রশ্ন থেকে যায়  রাষ্ট্রের কাছে ।  আর কত ধামা চাপা দিতে হবে আমাদের কলঙ্ক গুলোকে

Categories
আইন শৃঙ্খলা

ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার বন্ধ – হাইকোর্টের রুল – সচেতন হউন পুলিশি গ্রেফতারের ব্যাপারে

অনেক বৎসর থেকেই ৫৪ ধারার অপ ব্যাবহার এর বিভিন্ন ঘটনা এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় হাইকোর্টের এক যুগান্তকারী রায় এর মাধ্যমে বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলায় রক্ষা বাহিনীকে আরো জবাবদিহিতার মধ্যে নিয়ে আশা হয়েছে ।

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ মঙ্গলবার এই রায় দেয়।

এর ফলে ৫৪ ধারা ও ১৬৭ ধারা নিয়ে হাই কোর্টের দেওয়া নির্দেশনা বহাল এবং তা মানায় সরকারের বাধ্যবাধকতা থাকছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

এখন থেকে যে কোন পুলিশি গ্রেফতারের আগে পুলিশের কাছ থেকে পরিচয়পত্র এবং  ওয়ারেন্ট দেখার অধিকার রাখেন নাগরিক রা।

যে কোন বেআইনি কর্মকাণ্ডে হাতে নাতে ধরা পড়া  ব্যাতিত সম্পূর্ণ সন্ধেহর ভিত্তিতে  পুলিশ চাইলেই কাউকে গ্রেফতার করতে পাড়বে না ।

হাইকোর্টের নির্দেশনা ঃ

ক. আটকাদেশ (ডিটেনশন) দেওয়ার জন্য পুলিশ কাউকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করতে পারবে না।

  • খ. কাউকে গ্রেপ্তার করার সময় পুলিশ তার পরিচয়পত্র দেখাতে বাধ্য থাকবে।

    গ. গ্রেপ্তারের তিন ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে কারণ জানাতে হবে।

    ঘ. বাসা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য স্থান থেকে গ্রেপ্তার ব্যক্তির নিকট আত্মীয়কে এক ঘণ্টার মধ্যে টেলিফোন বা বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে বিষয়টি জানাতে হবে।

    ঙ. গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে তার পছন্দ অনুযায়ী আইনজীবী ও আত্মীয়দের সঙ্গে পরামর্শ করতে দিতে হবে।

    চ. গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে কারাগারের ভেতরে কাচের তৈরি বিশেষ কক্ষে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। ওই কক্ষের বাইরে তার আইনজীবী ও নিকট আত্মীয় থাকতে পারবেন।

    ছ. জিজ্ঞাসাবাদের আগে ও পরে ওই ব্যক্তির ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে হবে।

    ট. পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে ম্যাজিস্ট্রেট সঙ্গে সঙ্গে মেডিকেল বোর্ড গঠন করবে। বোর্ড যদি বলে ওই ব্যক্তির ওপর নির্যাতন করা হয়েছে তাহলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেট ব্যবস্থা নেবেন এবং তাকে দণ্ডবিধির ৩৩০ ধারায় অভিযুক্ত করা হবে।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা অনুযায়ী কোনো পুলিশ সদস্য যদি কাউকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করে, কিংবা ১৬৭ ধারায় রিমান্ডে নেয়, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যব্স্থা নেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এ কথা জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে এ কথা বলেন।

আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘হাইকোর্টের রায় আপিল বিভাগ বহাল রেখেছেন। কাজেই উচ্চ আদালতের রায় আমাদের জন্য মানা বাধ্যতামূলক। উচ্চ আদালত যে রায় দিয়েছেন তা আমি শুনেছি। এখনো রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি হাতে পাইনি। রায়ের কপি পেলে কী কী নির্দেশনা আছে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আজ সকালে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ও ১৬৭ ধারা অনুযায়ী বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার ও রিমান্ড বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, “সব সময় আগে থেকে মামলা করে ধরা সম্ভব হয় না। অপেক্ষা করে বসে থাকলে তো সে পালাবে। যেমন যুদ্ধাপরাধী বাচ্চু রাজাকার গ্রেপ্তারের নির্দেশ শুনে পালিয়েছে।… এগুলো জেনারালাইজ করা যাবে না। একেকটা ঘটনায় একেক রকম পদক্ষেপ নিতে হয়। তবে যাই হোক না কেন, আদালতের নির্দেশের আলোকেই নিতে হবে। আশা করি আদালতও বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করবে।”

মাহবুবে আলমের বিশ্বাস, নিজেদের পরিচয় না দিয়ে আইন-শৃংখলা বাহিনী কাউকে কখনো গ্রেপ্তার করতে যায় না।

“এখন দেখা যাচ্ছে এক জনকে শক্রুতা বশত গায়েব করে ফেলছে, পরিচয় দিচ্ছে আইন শৃংখলা-বাহিনীর লোক। আশা করি এটা বন্ধ হবে। সাদা পোশাকে যারা করবে তাদের কাজ হবে আসামিকে অনুসরণ করা, গতিবিধি লক্ষ্য করা; তাকে গ্রেপ্তার করার সময় নিশ্চই পরিচয় দেওয়া উচিত।”

অন্যদিকে ব্যারিস্টার সারা হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন- বাহাত্তরের সংবিধানপরবর্তী সময়ে আমাদের পুরনো আইনগুলো কীভাবে ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ করা হবে সেটা আমরা এই রায়ের মাধ্যমে পেয়েছি।

“বাহাত্তরের সংবিধানে আমাদের গ্রেপ্তার ও আটকাদেশের বিষয়ে কিছু রক্ষাকবচের ব্যবস্থা ছিল। আইনজীবীর সহযোগিতা পাবার অধিকার, আমরা যখন গ্রেপ্তার হই বা আমাদের যখন আটকাদেশ দেওয়া হয় আমাদেরকে কোর্টের সামনে সোপর্দ করতে হবে। ৩৬ ধারায় বলা হয়েছে হেফাজতে যে কোনো ধরনের নির্যাতন একেবারে নিষিদ্ধ। যে কোনো ধরনের অমানবিক সাজা নিষিদ্ধ। এই দুটি ধারার পরিপূর্ণ ব্যাখ্যা আমরা আশা করছি রায়ের মাধ্যমে পাব।”

এই যুগান্তকারী রায়ের মাধ্যমে রাগরিক অধিকার রক্ষায় আরেকটু এগিয়ে গেল বাংলাদেশ । প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বের এই রুলের মাধ্যমে  নাগরিক রা ফিরে পেল তাদের সাংবিধানিক অধিকার ।

বিডি নিউজ নেট থেকে প্রকাশিত

সিদ্ধিরগঞ্জ ডট কম bdnewsnet.com এর একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান

http://www.bdnewsnet.com/2016/05/High-court-rule-2016-ak-sinha-pollice.html

Categories
সামাজিক অবস্থা

কালবৈশাখীর বজ্রপাতে সারাদেশে ৫৪ জনের মৃত্যু – যা আগে আর কখন এক দিনে ঘটে নি

lightining-strike-banglades

পুরো  সপ্তাহ গরমের পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার সময় রাজধানীসহ দেশের অনেক জেলায় বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়। এর সঙ্গে হয় বজ্রপাতও, এতে নয়টি জেলায় প্রাণহানি ঘটে।

বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটেছে সিরাজগঞ্জে। উত্তরাঞ্চলের এই জেলায় পাঁচজন মারা যান। ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে মারা গেছেন দুই শিক্ষার্থী। এছাড়া রাজশাহীতে ৩, পাবনায় ৪, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৪ জন, গাজীপুরে ২, বগুড়ায় ২, হবিগঞ্জে ১, কিশোরগঞ্জে ৪, নাটোরে ২ জন মারা গেছেন।

কিন্তু নিহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে আশংকা করা হচ্ছে।

সন্ধ্যে সাতটার পর সারা দেশেই তীব্র কাল বৈশাখী ঝড় শুরু হয়।

এসময় অস্বাভাবিক রকমের বেশি বজ্রপাত হয়েছে।

ছয় বছরে বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন ১৪২০ জন। এর মধ্যে শিশু ২৭২ জন। নারী রয়েছে ২১৮ জন। আর পুরুষ রয়েছে ৯৩০ জন। দিন দিন বজ্রপাতে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, দুর্যোগ ফোরাম, গণমাধ্যমের তথ্য ও একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হিসাব মতে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

 

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের কয়েক বছরের বজ্রপাতের ডাটা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাংলাদেশের মধ্য অঞ্চল অর্থাৎ ঢাকা, টাঙ্গাইল, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর অঞ্চল এবং পশ্চিমাঞ্চল বৃহত্তর যশোর, কুষ্টিয়া ও খুলনা অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বজ্রপাতের ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈশাখ- জ্যৈষ্ঠ থেকে শুরু করে শীতের আগ পর্যন্ত তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় প্রচুর জলীয় বাষ্প ঊর্ধ্বমুখী হয়ে মেঘের ভেতরে যায়। জলীয় বাষ্পের কারণে মেঘের ভেতরে থাকা জলকণা ও বরফ কণার ঘর্ষণের ফলে বজ্রপাতের সৃষ্টি হয়। সাধারণত মাটি থেকে আকাশের ৪ মাইল সীমার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। ভয়াবহ এই বজ্রপাতের ছোবলে কিছু বুঝে ওঠার আগেই মারা যায় যে কোনো প্রাণী। এমনকি গাছের ওপর পড়লেও গাছটি মারা যায় কয়েকদিনের মধ্যেই।

 যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশ্বের গড় তাপমাত্রা এক ডিগ্রি  সেলসিয়াস বাড়লে বজ্রপাত অন্তত ১৫ শতাংশ এবং ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে ৫০ শতাংশেরও বেশি বজ্রপাত হতে পারে। কয়েকটি দেশের হিসাব কষে এই ফল দেয়া হয়েছে।

 রিপোর্টে বলা হয় কঙ্গোয় ভূমি থেকে এক হাজার মিটারেরও বেশি উচ্চতায় কিফুকা পর্বতের এক গ্রামে বিশ্বের সবচেয়ে  বেশি বজ্রপাত হয়। বছরে প্রতি বর্গকিলোমিটারে দেড়শ বার। পরবর্তী অবস্থানে আছে ভেনিজুয়েলা, উত্তর ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা। বিশ্বে প্রতি সেকেন্ডে গড়ে ৪৫ বার বজ্রপাত হয়। সেই হিসেবে বছরে এ সংখ্যা প্রায়  দেড়শ কোটি বার।

 বজ্রপাতের কারণ ও প্রকৃতি সম্পর্কে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রতিবেদনে  দেখা যায়, একেকটি বজ্রপাতের সময় প্রায় ৬০০ মেগাভোল্ট বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। অথচ একজন মানুষের মৃত্যুর জন্য মাত্র ১১০ ভোল্ট বিদ্যুৎ যথেষ্ট। সাধারণত আমরা বাসাবাড়িতে মাত্র ২২০ ভোল্ট ও শিল্প-কারখানায় ১২শ’  ভোল্টের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে থাকি। এছাড়া, জাতীয় গ্রিডে ১১ হাজার  ভোল্টের বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়।

 এ ব্যাপারে আবহাওয়াবিদ ও বজ্রপাত বিষয়ক গবেষক বিজ্ঞানী আব্দুল মান্নান  বলেন, বায়ুতে তাপমাত্রা  বেশি থাকা, বাতাসে জলীয় বাষ্প বেড়ে যাওয়াসহ বায়ুতে অস্থিরতা বিরাজ করলে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে থাকে।  ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ এমন একটা জায়গায় অবস্থান করছে, যেখানে বজ্রপাতের আশঙ্কা অনেক বেশি।

 এসএমআরসির বাংলাদেশ কার্যালয়ের এ বিজ্ঞানী বলেন, বিদ্যুৎ সব সময় পরিবাহী ব্যবহার করে। বজ্র বিদ্যুৎও তেমন পরিবাহী ব্যবহারের চেষ্টা করে। সেক্ষেত্রে যে এলাকায় বজ্রপাত হবে সেখানে বড় বড় গাছ থাকলে সাধারণত তার ওপরে পড়ে গাছকে পরিবাহী করে মাটি পর্যন্ত আসে। এছাড়া, যে কোনো বড় বড় টাওয়ারকেও পরিবাহী হিসেবে ব্যবহার করতে পারে যদি তাতে কোনো বজ্রনিরোধক যন্ত্র না লাগানো থাকে।

 সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বজ্রপাত কোনোভাবেই বন্ধ করা যাবে না। তবে বজ্রপাতকে মোকাবিলা করা সম্ভব। এর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বাড়িতে বজ্রনিরোধক যন্ত্র লাগানো, বজ্রপাতের সময় বজ্র নিরোধক যন্ত্রওয়ালা বাড়িতে অবস্থান নেয়া, আকাশে মেঘ গর্জন বা বজ্রপাতের সময় মোবাইল ফোনে কথা না বলা ও সব ধরনের বৈদ্যুতিক সুইচ  অফ রাখাসহ কিছু নিয়ম মেনে চললে বজ্রপাতের অপূরণীয় ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

 এছাড়া, আগেকার দিনে গ্রামাঞ্চলে বড় বড় গাছ দেখা যেতো যেগুলো বজ্রপাত থেকে লোকালয়ের মানুষগুলোকে রক্ষা করতো। ২০০৯ সাল থেকে বজ্রপাতের ওপর গবেষণা করছে এসএমআরসি।

সার্ক স্টর্ম প্রোগ্রাম নামের এ প্রকল্পের অধীনস্থ গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বজ্রপাতের সংখ্যা ও প্রাণহানির দিক দিয়ে সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ।

 সার্কভুক্ত অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর হার বেশি। সংস্থাটির ঢাকা কার্যালয়ের গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর বজ্রপাতে মারা যায় ৫০০ থেকে ৮০০ লোক। সার্ক আবহাওয়া গবেষণাকেন্দ্রের (এসএমআরসি) তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর মার্চ থেকে মে পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৪০টি বজ্রপাত হয়। এতে বছরে মাত্র ১৫০ বা তার কিছু বেশি লোকের মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমে ছাপা হয়। আসলে এ সংখ্যা ৫০০ থেকে ৮০০ হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইটনিং সেফটি ইনস্টিটিউটের ২০১০ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায় প্রতিবছর সারা বিশ্বে বজ্রপাতে যত মানুষের মৃত্যু ঘটে, তার এক-চতুর্থাংশ ঘটে বাংলাদেশে।

ঢাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এরকম তীব্র বজ্রপাত তারা তাদের স্মরণকালে দেখেননি।

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন সেখানে অন্তত পাঁচ জন বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন।

সিরাজগঞ্জে চারজন এবং কিশোরগঞ্জে চার জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সেখানকার কর্মকর্তারা।

এছাড়া ঢাকা, নাটোর, গাজীপুর থেকেও বজ্রপাতে নিহত হওয়ার খবর এসেছে।

বিলুপ্ত সার্ক আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক সুজিত কুমার দেবশর্মা  বলেন, কালবৈশাখী মৌসুমে বজ্রঝড় বেশি হয়। সাধারণত মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত বজ্রঝড় হয়ে থাকে। বর্ষাকালের পর কখনও কখনও অক্টোবর-নভেম্বর মাসেও তা দেখা যায়। বাংলাদেশে প্রতি বছর বজ্রপাতে গড়ে দুই থেকে তিনশ’ মানুষের প্রাণহানি ঘটে বলে জানান তিনি।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইলে ৩৭ মিলিমিটার সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এছাড়া নেত্রকোনা, কুমিল্লা, সিলেট, শ্রীমঙ্গল, রাজশাহী, ঈশ্বরদী, বগুড়া, বদলগাছী, তাড়াশ, রংপুর, দিনাজপুর, রাজাহাট, ভোলা ও পটুয়াখালীতে বৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে মংলা ও যশোরে ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস,  ঢাকায় তাপপাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠেছিল।

শুক্রবারের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

চলতি এপ্রিল মাসের ১৮ তারিখের মধ্যেই বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে ৪৮ জনের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, অব্যাহতভাবে বড় বড় বৃক্ষ নিধনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত গাছ লাগানো হচ্ছে না। তাই ভূ-পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়াসহ বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যে কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতো মৃত্যুর পরও বজ্রপাতকে দুর্যোগের অন্তর্ভুক্ত করা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেটার ক্ষয়ক্ষতি কমিউনিটির ভেতরে  থেকে মোকাবিলা করা সম্ভব না তাকে দুর্যোগ বলে। যেমন বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়। পক্ষান্তরে যে সমস্যার মোকাবিলা কমিউনিটির ভেতরে থেকেই করা সম্ভব তাকে দুর্যোগ বলা যায় না। যেমন বজ্রপাত। এটার মোকাবিলার জন্য সচেতনতাই যথেষ্ট। তাই বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। আবহাওয়া অধিদপ্তরের  রেকর্ড অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত গত ৫ বছরে সারা দেশে ৫ হাজার ৭৭২টি বজ্রপাত হয়। এর মধ্যে ২০১১ সালে ৯৭৮, ২০১২ সালে ১ হাজার ২১০, ২০১৩ সালে ১ হাজার ৪১৫, ২০১৪ সালে ৯৫১ ও ২০১৫ সালে ১ হাজার ২১৮ বজ্রাঘাত হেনেছে বাংলাদেশে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দুর্যোগ ফোরামের গণমাধ্যম থেকে সংগৃহীত রিপোর্টে দেখা যায় শুধু চলতি এপ্রিল মাসের ১৮ তারিখের মধ্যেই সারা দেশে বজ্রপাতে মৃতের সংখ্যা নারী-পুরুষ ও শিশু মিলে ৪৮ জন। এর মধ্যে শিশু ১৪, নারী ৩ ও পুরুষ ৩১ জন। গত বছর ২০১৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ২৭৪ জন। এর মধ্যে শিশু ৫৪, নারী ৩৬ ও ১৮৪ জন পুরুষ। ২০১৪ সালে ৩৯ শিশু, ২৮ নারী ও ১৪৩ পুরুষ মিলিয়ে ২১০, ২০১৩ সালে ৫৫ শিশু, ৫৩ নারী ও ১৭৭ পুরুষসহ ২৮৫ জন মারা যায়। ২০১২ সালে মারা যায় ৩০১ জন, এর মধ্যে রয়েছে ৬১ শিশু, ৫০ নারী ও পুরুষ। ২০১১ সালে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৭৯ জন, যার মধ্যে ৩১ শিশু, ২৮ নারী ও ১২০ পুরুষ। সংস্থাটির ২০১৫ সালের তথ্য অনুযায়ী চাঁপাই নবাবগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, লালমনিরহাট, সুনামগঞ্জ, সাতক্ষীরা, দিনাজপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সবচেয়ে বেশি বজ্রপাতের ঘটনা ঘটেছে।
Categories
আইন শৃঙ্খলা

পুলিশের অভিযানে আইল পাড়া থেকে ২ টি পিস্তল , ২৭ রাউন্ড গুলি ও হেরোইন উদ্ধার

db-b20160403153351সিদ্ধিরগঞ্জের ক্রাইম জোন   আইল পাড়া থেকে পূর্বে গ্রেফতার এবং রিমান্ডে নেওয়া ইয়াবা ব্যাবসায়ি দেলোয়ার হোসেন দেলুর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দেলুর আস্তানা থেকে রোববার বিকেলে অস্ত্র গোলা বারুদ ও হেরোইন উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ।

ডিবির এসআই মাজহারুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ এস আই ইব্রহিমসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে রোববার বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জ আইলপাড়া এলাকা খাদেজার ভাড়াবাড়িতে অভিযান চালিয়ে দুটি পিস্তল, ২৭ রাউন্ড গুলি, ১১টি ককটেল, ৩.৩০ গ্রাম গান পাউডার ও ৬০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়।

দেলোয়ার ওরফে মাস্টার দেলুকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছেতবে এসময় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি ডিবি পুলিশ। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় এক ডজনের বেশি মামলা রয়েছে।

Categories
আইন শৃঙ্খলা

অটো – সি এন জি চোরদের – আস্তানায় র‍্যাব ১১ এর অভিযান

RaB-big20160402155541

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র‍্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন র‍্যাব এর গৌরব উজ্জ্বল অতীতের ধারাবাহিকতায় এক নতুন  সফলতা – র‍্যাবের আভিযানিক দল এএসপি শাহ মোঃ মশিউর রহমান, পিপিএম এর নেতৃত্বে এক গ্যারেজের ভিতরে অভিযান পরিচালনা করে ২টি সিএনজি চালিত থ্রী হুইলার এবং চোরাইকৃত সিএনজি চালিত থ্রী হুইলার বিক্রির কাজে ব্যবহৃত ২টি মোবাইল সেটসহ আসামী রাকিব হাসান ওরফে রয়েল (৩৩) ও মোঃ কায়েসকে (৩০) গ্রেফতার করে।

BD-news-12l

উদ্ধারকৃত সিএনজি চালিত থ্রী হুইলার দুইটির আনুমানিক মূল্য ১০ লাখ টাকা।

র‍্যাব -১১ তাদের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নারায়ণগঞ্জ জেলায় বেশ কিছু দিন যাবৎ সিএনজি চালিত থ্রী হুইলার চোরাই চক্রের সদস্যরা সক্রিয় হয়ে উঠে। সিএনজি চালিত থ্রী হুইলার চোরাই চক্রের সদস্যরা শহরের বিভিন্ন স্থান হতে সিএনজি চালিত থ্রী হুইলার চুরি করে সিএনজি চালিত থ্রী হুইলার এর মালিক হতে মোটা অংকের টাকা দাবি অথবা অন্যত্র বিক্রি করে আসছিল।

বিভিন্ন সময়ে সিএনজি চালিত থ্রী হুইলার চোরাই চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে  র‍্যাব  কাছে অভিযোগ আসলেও সিএনজি চালিত থ্রী হুইলার চোরাই চক্রের সদস্যরা ধরা চোয়াড়  বাইরে থেকে যায়। কিন্তু  র‍্যাবের  গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ২ এপ্রিল শনিবার দুপুরে একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর মডেল থানাধীন গোগনগর পূর্ব মসিনাবন্দ গ্রামস্থ রাস্তার পূর্ব পার্শ্বে রাকিব হাসান ওরফে রয়েল এর ভাড়া করা টিনসেড গাড়ীর গ্যারেজের ভিতর চোরাই করা সিএনজি চলিত থ্রী হুইলার মজুদ আছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে  এই অভিযান পরিচালনা করা হয় ।

Categories
আইন শৃঙ্খলা

সোনারগাঁয়ে মাদক বিরোধী অভিযান আটক-১ ভ্রাম্যমান আদালত কর্তৃক ১ বছরের সাজা প্রদাণ

azab-620x330

মোঃ কবির হোসেন snbarta24.com :  সোনারগাঁয়ে আজ সকাল ৮.০৫ ঘটিকার সময় সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব আবু নাসের ভূঞার নেতৃত্বে সোনারগাঁ থানার এএসআই আবুল কালাম আজাদ, এবং এএসআই ইব্রাহিম আকন্দ, সংগীয় ফোর্স নিয়ে সোনারগাঁ থানাধীন অনন্ত মুছা গ্রামে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা কালে ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মাদক সম্রাট বাঁসি রাসেল(২৫) কে গ্রেফতার করেন। পরবর্তীতে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব আবু নাসের ভূঞা ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ০১(এক) বছরের সাজা প্রদান করেন।

Categories
আইন শৃঙ্খলা

সচেতন সমাজ বদলে দেবে সিদ্ধিরগঞ্জ ।

Siddhirganj

 

আইন নিজের হাতে তুলে নয় । সকল  অসামাজিক কার্যকলাপ ও ইভ টিজিং এর মত ঘ্রিনিত  কাজে সর্বপ্রথম বাধা দেওয়া এবং পরবর্তীতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ এবং র‍্যাব ১১  নিতিবান সদস্যদের সাহাজ্যে যে কোন সমস্যা সমাধান করা সম্ভব ।

এভাবেই ধিরে ধিরে সিদ্ধিরগঞ্জের সকল এলাকার রাস্তা ঘাটের ছেঁচড়া রংবাজদের( ৯৯% ক্ষেত্রে স্থানীয়  নয় )   – গজারি চালান দেবার মাধ্যমে এলাকার আইন শৃঙ্খলা বজায় থাকবে বলে মনে করে সিদ্ধিরগঞ্জ ইয়ুথ ক্লাবের সদস্যরা ।

র‍্যাব ১১ কন্ট্রোল   সকল প্রকার অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ  নেবেন বলে জানিয়েছেন ।  এতে স্থানীয় তরুন সমাজকেই অগ্রণী ভমিকা পালন করতে হবে ।

মাদক ও ইভ টিজিং এর বিরুদ্ধে  বাংলাদেশ আওয়ামি সরকার নো টলারেন্স নীতি গ্রহন করেছে ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  এক বাণীতে মাদক সমস্যা সমাধানে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংগঠন, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, পিতা-মাতা, অভিভাবকসহ সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী মাদকের অবাধ বিস্তার রোধে মাদকবিরোধী আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি মাদক নিরোধ-শিক্ষা ও সচেতনতা সৃষ্টি এবং ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা একান্ত প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বর্তমানে একটি বৈশ্বিক সমস্যা .

মাদকের চোরাচালান ও অপব্যবহারের ফলে জনস্বাস্থ্য, আইন-শৃঙ্খলা ও দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়। তিনি বলেন, তার সরকার মাদকের করাল গ্রাস থেকে দেশও জাতিকে রক্ষা করতে এ সংক্রান্ত আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করেছে। মাদকবিরোধী প্রচার-প্রচারণাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

মরন নেশা ইয়াবার হাত থেকে এই তরুন সমাজকে রক্ষা করতে হলে সবার আগে তরুন দের বোঝাতে হবে এবং এলাকার সকল মাদকবিক্রয় কেন্দ্র থেকে ইয়াবার বিক্রয় বন্ধ করতে হবে । তা না হলে সহজ লভ্য এই নেশা দ্রব্য হয়ত গ্রাস কবে  আমার আপনার ভাই বোনদের কিংবা সন্তানদের  ।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে আছে ।কারন সাস্থ গত দিক দিয়ে হেরইন থেকেও অনেক বেশি ক্ষতিকারক এই ইয়াবা ।

সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার সকল এলাকার স্থানীয় জনগোষ্ঠী এক হলেই এই ইয়াবার প্রভাব থেকে স্কুল কলেজগামী ছেলেপেলেদের রক্ষা করা  সম্ভব হবে ।  একটি জিনিস মনে রাখবেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে যে কোন যুদ্ধে সবসময় আপনি সচেতন নাগরিক সমাজ ও সরকারের সাহাজ্য পাবেন ।

Categories
Uncategorized

সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুরিতে – ধানমন্ডির দৃক গ্যালারি কর্মকর্তার মৃতদেহ

BD-ws
দৃক গ্যালারির জেনারেল ম্যানেজার রেজাউর রহমান জানান, শনিবার বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে ধানমন্ডির ৮নম্বর সড়কে অবস্থিত ডাচবাংলা ব্যাংকের শাখা থেকে দৃক গ্যালারির তিন লাখ টাকা উত্তোলন করেন ইরফানুল ইসলাম। দুপুর বারটা থেকে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। দৃক গ্যালারি ধানমন্ডি পনেরতে অবস্থিত। সেখানে তার ফিরে আসার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়া পর্যন্ত তিনি আর ফিরে আসেননি। রোববার সকালে পত্রিকায় নারায়ণগঞ্জে অপ্সাত পরিচয় লাশ উদ্ধারের খবর শুনে তারা নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে আসেন।

দুপুর দেড়টায় নিহতের বড় ভাই ইমদাদুল ইসলাম নওশাদ লাশ সনাক্ত করেন। কি কারনে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা তারা নিশ্চিত নন বলে জানান। তার ব্যাক্তিগত বা পারিবারিক কোন শত্রু ছিলোনা বলে তারা জানতে পেরেছেন। তার উত্তোলন করা ব্যাংকের টাকার জন্য তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি ধারনা করেন। নিখোজের পর তিনি বাদি হয়ে এ ব্যাপারে কলাবাগান থানায় একটি জিডি করেন।
নিহতের ভাই ইমদাদুল ইসলাম নওশাদ জানান, নিহতের পিতার নাম মাহবুবুল ইসলাম। ঢাকার হাজারীবাগ এলাকার মনেশ্বর রোডে তারা থাকেন। তার একটি মাত্র ছেলে। ছেলের নাম ইফতেখারুল ইসলাম উমাম। সে এসএসসি পরীক্ষার্থী। তার স্ত্রীর নাম জোহরা।

আজ দুপুর আড়াইটায় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে তার ময়না তদন্ত সম্পন্ন করা হয়। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আসাদুজ্জামান ময়না তদন্ত শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হতে পারে। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।<br
এর আগে শনিবার বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকায় অজ্ঞাত হিসেবে লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদস্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতল মর্গে প্রেরন করে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোখলেসুর রহমান জানান, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পাশে জালকুড়ি এলাকায় শনিবার বিকেলে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসি পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। নিহতের শরীরে হলুদ পাঞ্জাবী ও সাদা রংয়ের প্যান্ট ছিল। তাকে হত্যা করা হয়েছে কিনা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর জানা যাবে। হত্যা হয়ে থাকলে কারা কি কারনে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা তদন্তের পর বলা যাবে। এ ব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় শনিবার গতকাল একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছিলো। এখন এটি হত্যা মামলায় রুপ নেবে। তিনি বলেন, অন্য কোথাও হত্যা করে তাকে এখানে এনে ফেলা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

 

 

Categories
সামাজিক অবস্থা

কাচপুরে ব্রয়লার বিস্ফোরনে তিনজন নিহত

BD-ws

শনিবার রাতে সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর এলাকায় একটি বরফ ফ্যাক্টরিতে ব্রয়লার বিষ্ফোরনে ৩ শ্রমিক নিহত ও চারজন আহত হয়েছে। রাত ১১টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ ও দমকল বাহিনীর কর্মীরা উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নিহতদের নাম ও পরিচয় জানা যায়নি।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর এলাকায় ভায়াপুর নামক স্থানে আলীরাজ নামক একটি বরফ ফ্যাক্টরিতে ৭-৮ জন শ্রমিক কাজ করার সময় শনিবার রাত সোয়া ১০টায় বিকট শব্দে ব্রয়লারের বিষ্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলে দুইজন নিহত হয়। ঢাকা নেয়ার পথে আরো একজন নিহত হয়।

 

সোনারগাঁ থানার ওসি মন্জুর কাদের ঘটনাস্থল থেকে জানান, গতকাল শনিবার রাত ১১টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চলছে। নিহত ও আহতদের নাম ও ঠিকানা এখনো জানা যায়নি। ঘটনার কারণ সর্ম্পকেও পুলিশ কিছু জানাতে পারেনি। ব্রয়লার বিষ্ফোরনের পর থেকে প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি।

Categories
পরিবেশ ও নদী দূষণ

সিদ্ধিরগঞ্জ -শীতলক্ষ্যা ওয়াকয়ে । সকলের পছন্দ । মেয়র কে ধন্যবাদ

siddhirganj-sitolokkha-riveসূর্যটা উঠি উঠি করছে ।

সোনালী রোদের আভায় পূর্বাকাশ ধীরে ধীরে আলোকিত হচ্ছে ।

মৃদু ঠান্ডা বাতাস বইছে । বাতাসে নদীর পানিতে ছোট ছোট ঢেউ সৃষ্টি হয়ে দূরে দূরে সরে যাচ্ছে । পুর্বাকাশের উদীয়মান সূর্য প্রতিফলিত হচ্ছে ধীরে ধীরে বহমান পানির প্রবাহ তে ।

বর্নিত রাস্তাটি সিদ্ধিরগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড় ঘেষে অবস্থিত । রাস্তাটি উত্তরে কাচপুর ব্রীজ এর পুর্ব অংশ থেকে শুরু হয়ে দক্ষিনে সিদ্ধিরগঞ্জ বাজার এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত । ইট বিছানো রাস্তায় নদীর পার্শ বরাবর দেয়া হয়েছে সিমেন্টের ঢালাই করা রেলিং । রাস্তার গড় প্রশস্ততা ১০ ফুট ।

রাস্তার পূর্ব পাশে (নদীর পাশে) তৈরি করা হয়েছে বেশ কয়েকটি ঘাট এবং পশ্চিম পাশে বসার স্থান । রাত্রে পথ চলা সুগম করার জন্য রাস্তার পাশে কিছু দূর পর পর স্থাপন করা হয়েছে বৈদ্যুতিক আলোর খুটি । এই রাস্তাটি শুধু যে সিদ্ধিরগঞ্জের অন্যতম সৌন্দর্য বর্ধক হিসেবে কাজ করছে তা নয়, এটি যথাক্রমে উত্তর থেকে শুরু করে, উত্তর আটি, আটি, উত্তর আজিবপুর, মধ্য আজিবপুর এবং সর্ব দক্ষিনে সিদ্ধিরগঞ্জ বাজার কে সংযুক্ত করেছে । এটি সিদ্ধিরগঞ্জের গুরুত্তপূর্ন আভ্যন্তরীন রাস্তা গুলোর মধ্যে অন্যতম ।

bdnewsnet.comdsd

নদীর পাড়ের রেলিং দেয়া উত্তর-দক্ষিন বরাবর দ্বিমুখী রাস্তায় হেটে চলেছে প্রাতভ্রমনে বের হওয়া মানুষজন। এদের কে দেখে যে কারো মনে হবে, সকালের স্নিগ্ধ প্রাকৃতিক পরিবেশে নদীর পাড়ে হাটা শুধুই যে শারিরীক ভাবে উপকারী তা নয়, এটা মানসিক প্রশান্তি আনয়নের প্রভাবকও বটে ! বেলা বাড়ার সাথে সাথে প্রাত ভ্রমনে বের হওয়া নারী-পুরুষের সাথে আরো এক দল মানুষ কে দেখা যায় ।

এরা কর্মজীবি মানুষের দল । কর্মস্থানে ছুটে চলেছেন এরা পায়ে হেটে, সকালের স্নিগ্ধ রোদে আলোকিত পথ ধরে ।

 

প্রবাহমান নদীর পাশে অবস্থিত এই পথটির বিকাল বেলার চিত্র আরো সুন্দর । পড়ন্ত বেলায় এখানে জমে উঠে আড্ডা । সকল ধরনের মানুষ এই সময়ে নদীর পাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে চলে আসেন ।

উঠতি বয়সের তরুনদের আড্ডা, মধ্যবয়সী নারী-পুরুষের আয়েশী হাটা, ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের ঝালমুড়ি অথবা বাদাম কিনে খাওয়ার হিড়িক এবং রাস্তার উত্তর-পশ্চিম পাশের অনেকটা অংশ জুড়ে বিস্তৃত গাছের সারির ফাকে ফাকে জমে থাকা পড়ন্ত বিকেলের সৌন্দর্য – এ যেনো মানুষের সাথে প্রকৃতির এক অপূর্ব মিলন মেলা ।

 

দিনমনি পাটে বসার সময় কর্মজীবি মানুষের দলটা কে আবার চোখে পড়বে । কাজ শেষে গন্তব্যে ফিরে চলার পথে তারাও মুগ্ধ হন অস্তগামী সুর্যের আলোর ছটায়, সন্ধ্যার আলো-আধারীর খেলায় ।

bdnewsnet.comdsd