Categories
Uncategorized

একটি গল্প

888নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৪ নং ওয়ার্ড উপ-নির্বাচনে শিমরাইল এলাকার রিকশার মালিক কয়েকজন বৃদ্ধ ভোটার ক্ষোভের সাথে উক্তি করেন, পা ধরলে যার মন গলেনা সেই বাবজান মাথা নত করে ভোট চাইতে আসছে ঘরের দোয়ারে। দেড় বছর আগে যার পা ধরে কেঁদেও টাকা না দিয়ে রিকশা ছাড়িয়ে আনতি পারিনি সেই পাষানকে ভোট দিয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত করলে কপালে কি দুঃখ আসে আল্লাই জানে।

জানা গেছে, আলোচিত ৭ হত্যা কান্ডের কিছু দিন আগে ভারতে গ্রেফতারকৃত নূর হোসেন বাহিনীর সন্ত্রাসীরা চাঁদার দাবিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকার কমপক্ষে ৪ শতাধিক ব্যাটারি চালিত রিকশা আটক করেছিল। আটককৃত রিকশা ছাড়িয়ে নিতে মালিকদের চাঁদা দিতে হয়েছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে। যারা টাকা দিতে অপরাকতা প্রকাশ করেছে তাদের রিকশার ব্যাটারি রেখে দিয়েছে নূর বাহিনী। ওই সময় শিমরাইল এলাকার আবদুল হামিদ ও রেশেদা বেগম নামে এক মহিলার রিকশাও আটক করা হয়। রিকশা ছাড়িয়ে আনতে রাশেদা বেগম শিমরাইল ট্রাক টার্মিনালে নূর হোসেনের অফিসে ছুটে যায়। নূর হোসেনের ঘনিষ্ট সহযোগী ও সন্ত্রাসী বাহিনীর কমান্ডার আরিফুল হক হাসানের কাছে গিয়ে কান্না কাটি করে তার রিকশা দিয়ে দিতে। তখন হাসান পরিস্কার জানিয়ে দেয় ১০ হাজার টাকা না দিলে রিকশা ফিরত দিবে না। এত টাকা দিবার অক্ষমতা প্রকাশ করে রিকশা ফিরত দিতে রাশেদা হাসানের পা ধরে কান্না কাটি শুরু করলে সন্ত্রাসীদের এ কমান্ডার অসহায় রাশেদাকে লাথি মেরে ফেলে দেয়। তার কান্না কাটিতে শেষ পর্যন্ত হাসান নূর বাহিনীর আরেক কমান্ডার আলী মোহাম্মদ ও কালা শাহজাহানকে বলে দেয় ৫ হাজার টাকায় রাশেদার রিকশা দিয়ে দিতে। পা ধরেও মনগলাতে না পেরে নিরুপায় হয়ে রাশেদা ৫ হাজার টাকা দিয়ে রিকশা ফিরিয়ে নেয়। একই ভোক্তভূগী আরেক রিকশা মালিক আবদুল হামিদ। তিনিও শিমরাইল বস্তির বাসিন্দা। অভিযোগ রয়েছে, নূর বাহিনীর কমান্ডার কালা শাহজাহান, আলী মোহাম্মদ ও আরিফুল হক হাসান মিলে তখন ৪ শতাধিক রিকশা মালিক থেকে ১০/১৫ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করেছে। এ বাহিনীর এ চাঁদাবাজিতে সে সময় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকার রিকশা মালিক ও চালকদের কান্নায় বাতাস ভারি হয়ে উঠে। এমন লোক রয়েছে যাদের রিকশা আজও ফিরত পায়নি। আজ তাদের কাছে দোয়ারে ছুটে যাওয়ায় ওই সব ভোক্তভূগীরা রশিকথা করে বলা বলি করছে, পা ধরলে যার মন গলে না সেই বাবজান আইছে ভোট চাইতে।

নাসিক ৪ নং ওয়ার্ড এলাকার রিকশা মালিক ও চালকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,পা ধরেও যে সন্ত্রাসী হাসানের মন গলাতে পারা যায়নি,সেই হাসান আজ ভোটের জন্য ওই সব রিকশা মালিক ও চালকদের ঘরের দোয়ারে গিয়ে মাথা নত করে ভোট চাইছে। এসব ভোটাররা জানায়, হাসান যখন ভোট চাইতে আসে তখন দেড় বছর আগে তার পা ধরার কথা মনে পড়ে যায়। সে কথা মনে পড়লে কষ্টে বুকটা ফাইটা যায়। পা ধরলেও যার মন গলে না এ পাষনকে ভোট দিয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত করলে কপালে কি দুঃখ আসে তা আল্লাহই জানে। নূর হোসেনের কমান্ডার হাসানের অপকর্ম, অত্যাচার, নির্যাতনের শিকার সাধারণ ওয়ার্ডবাসী অতিত ভুলে যায়নি বলে মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, আলোচিত ৭ হত্যা কান্ডের পর নূর হোসেনের পাশা পাশি কমান্ডার আরিফুল হক হাসানও এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পলাতক থেকেই ৪ নং ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচনে কাউন্সির প্রার্থী হয় হাসান। প্রায় ১৫ মাস পলাতক থেকে গত ১১ জুলাই সকালে সে বীরদর্পে এলাকায় ফিরে আসে। এলাকায় এসেই তার আগের সেই সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে নির্বাচনী গণসংযোগের নামে মহড়া দিয়ে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছে। তার আগমনে নূর বাহিনী ও সমর্থকরা উল্লাসিত হলেও সাধারণ নিরীহ নির্যাতিত মানুষের মাঝে বিরাজ করছে ক্ষোভ ও আতঙ্ক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *