জনতার আদালতে আইভীর বিচার হবে: শামীম ওসমান

shamim-osman

নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ এ কে এম শামীম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জের সচেতন মানুষ আজকে এখানে বিনা ঘোষনায় এই সমাবেশে উপস্থিত হয়েছে। এখানে কাউকে দাওয়াত করে নিয়ে আসা হয়নি।

নারায়ণগঞ্জের মানুষ যখনই কোন অন্যায় দেখেছে, তখনই রাজপথে নেমে এসেছে। কাউন্সিলররা এখানে উপস্থিত হয়ে জনগণের ভোটের মর্যাদা রেখেছেন। তারা এখানে তাদের দু:খের কথা বলেছেন। বিগত ৪ বছরে তারা সিটি কর্পোরেশনে শান্তিমত কাজ করতে পারেনি। বাংলাদেশে একটি সংস্থা আছে আইএমপি। তাদের কাজই হলো সরকারের বিভিন্ন সংস্থার দুর্নীতির তদারকি করা। দেশের প্রতিটি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছে, পঞ্চবট্টি পার্কে যে কাজ হয়েছে, একশ টাকার মধ্যে সেখানে বাইশ টাকারও কাজ হয়নাই। যে সুফিয়ান এক সময় টিবয়ছিল, সে নাকী এখন কোটিপতি বনে গেছে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা: সেলিনা হায়াৎ আইভীর দুর্নীতির প্রতিবাদে বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। রবিবার বিকেল ৪টায় শহরের ডিআইটি মসজিদের সামনে ট্রাকের উপড় নির্মিত অস্থায়ী মঞ্চে দুর্নীতি কারো কাম্য নয় শ্লোগানে সচেতন নাগরিক সমাজের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ।
মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ এ কে এম শামীম ওসমান।
তিনি আরো বলেন, মাধবী প্লাজাতে সংরক্ষিত কোটা থেকে সুফিয়ানকে দোকান বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে, যেটা নারায়ণগঞ্জের সকল স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে প্রকাশ পেয়েছে। সিটি কর্পোরেশনে যে নির্বাচন হয়েছে, সেখানে কী হয়েছে সেটা আইভীও জানে, আমিও জানি। তৈমুর নির্বাচন থেকে সড়ে না দাঁড়ালে ওনি জয়ী হতে পারতেন না। দলের স্বার্থে মুখ বন্ধ রেখেছি। ভবিষ্যতেও মুখ খুলবনা।
তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জবাসীর গ্যাসের সমস্যা সমাধানের জন্য আমার বড় ভাই মরহুম নাসিম ওসমান অনেক পরিশ্রম করে গেছেন। ওনি জীবিত অবস্থায় এ সমস্যা নিরসনের জন্য সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের সাথে আলোচনায় বসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দূর্ভাগ্য যে, চোরে না শুনে ধর্মের কথা। এরপর আমার আরেক ভাই সেলিম ওসমান গ্যাসের সমস্যা সমাধান করেছেন। এখন নারায়ণগঞ্জে আর কোন গ্যাসের সমস্যা নাই। নাসিম ওসমান জীবিত অবস্থায় শীতলক্ষ্যা ব্রিজ যেন না হয়, সেজন্য আইভী বার বার বাধার সৃষ্টি করেছে।
শামীম ওসমান আরো বলেন, আমাকে ঘায়েল করার জন্য কিছু কুশীলরা আইভীর সাথে গোপণে আলোচনা করেছে। ত্বকী হত্যা নিয়ে আইভীর সাথে নারায়ণগঞ্জের কিছু সুশীল নামধারী ওসমান পরিবারকে ঘায়েল করতে প্রথমে আমার নাম জড়িয়েছিল। এরপর তারা আমার বড় ভাই নাসিম ওসমানের ছেলে আজমীর ওসমানের নাম জড়িয়েছে। তাদের উদ্যেশ্য ছিল সম্মান হানী করে তারা ওসমান পরিবারকে নারায়ণগঞ্জ থেকে বিলুপ্ত করবে। কিন্তু ত্বকী হত্যার রহস্য এখন উন্মাচন হচ্ছে। যেখানে ত্বকীর লাশ পাওয়া গেছে, সেখানকার কিছু লোক স্বাক্ষী দিয়েছে যে খুনের আগে দিন সেখানে ওর সাথে একটি মেয়ে ছিল।
তিনি আরো বলেন, ওসমান পরিবার এমন একটি রাজনৈতিক পরিবার, যারা কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে নাই। নারায়ণগঞ্জের পতিতা পল্লি উচ্ছেদ করেছিলাম বলে আমাকে বোমা হামলায় মারার চেষ্টা চালোনো হয়েছিল। টেন্ডার ছাড়াই সিটি কর্পোরেশনের ৭২০টি দোকান বিক্রি করা হয়েছে। অথচ তিনি বলেছেন আমি এটা করি নাই। আমার মত শামীম ওসমান যে সংসদে রয়েছে, সেখানে আপনি মিথ্যা কথা বলে পার পেয়ে যাবেন, এটা ভাবলেন কী করে। আমি বাঘের মত গর্জন করে সংসদে যাই। যেদিন থেকে তদন্ত কমিটি মেয়রের দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ পেয়ে দুদকে পাঠিয়েছে, তারপর থেকেই আইভী নানা ভাবে টাকা ছিটানো শুরু করেছে। গরীব মানুষগুলো যখন কোন উৎসবে ফুটপাতে দোকান নিয়ে বসে, তখন চাঁদা না পেয়ে তাদের সকালে উঠায়, আর বিকেলে বসায়।
প্রশাসনের উদ্দ্যেশ্যে শামীম ওসমান বলেন, ফুটপাতের দোকানদাররা চোর না। তারা খেটে খায়। তাদের পেটে লাথি মারবেন না। প্রয়োজনে জায়গা ঠিক করে এদের দোকান বরাদ্ধ করে দিন। যদি কেউ এদের পেটে লাথি মারে, তাহলে আমি শামীম ওসমান একজন সাংসদ হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে তা সহ্য করবনা। সিটি কর্পোরেশনের কোন আইনে আছে ট্রানস্পোর্ট কোম্পানী সিটি কর্পোরেশনকে টাকা দিবে।
আইভীর চাচাতো ভাই অবৈধ রিক্সা আটক করে বাণিজ্য করছে। আগামীতে যেই মেয়র নির্বাচিত হোকনা কেন, আমি শামীম ওসমান তার পক্ষে কাজ করব।
আইভী ওয়ান ইলেভেনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। সে যে দুর্নীতি করেছে, দুদক না পারলেও জনতার আদালতে তার বিচার হবে।
উপস্থিত ছিলেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো: শহীদ বাদল, সাবেক সভাপতি এড. আনিসুর রহমান দিপু, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফুল্লা বাদল, সাথারণ সম্পাদক শওকত আলী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড: শিরিণ শারমিন, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এর সহ-সভাপতি মঞ্জুরুল হক, বিকেএমইএ সহ-সভাপতি জিএম ফারুক, জেলা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি চন্দন শীল, যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম, বাংলাদেশ ইয়ার্ণ মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি লিটন সাহা, বাংলাদেশ এথলেটিক এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি ইব্রাহীম চেঙ্গীস, মহানগর সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নাজমুল আলম সজল, সাধারণ সম্পাদক জুয়েল, মহানগর যুবলীগ সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু, সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এহসানুল হক নিপু, জিএম আরাফাত, বিশিষ্ট ক্যাবল ব্যাবসায়ী করিম বাবু, শেখ রাসেল শিশু কিশোর পষিদের সভাপতি ওবায়দুল আজিজ, স্বাধীনতা চিকিতসক পরিষদের সভাপতি ডা: দেবাশিস সাহা, নারায়ণগঞ্জ নিউজ পেপার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম ইকবাল রুমি, বন্দর থানা আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ্জ আব্দুর রশিদ, বিএমএ‘র সভাপতি ডা: শাহনেওয়াজ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার যুবলীগ সভাপতি মতিউর রহমান মতি, মহানগর শ্রমিক লীগের সভাপতি কাজিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান মুন্না, মহানগর মহিলা লীগের সভানেত্রী ইসরাত জাহান খান স্মৃতি, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাফায়েত আলম সানি, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সুজন, মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান রিয়াদ, নিতাইগঞ্জের শ্রমিক নেতা সানি প্রমুখ।

Aziz Tarak

King In My Kingdom & Don't mess with me, Always I don't act like a Gentlemen.

You may also like...

%d bloggers like this: