সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দুর্নীতিবাজ ওসি সারাফত উল্লাহ প্রত্যহার ও বিভাগীয় ব্যবস্থা

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিতর্কিত ওসি (প্রশাসন) মুহাম্মদ সরাফত উল্লাহকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। ওসি সরাফত উল্লাহ সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় যোগদানের পর থেকে তার বিরুদ্ধে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বাইরে খোদ ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাদের বড় একটি অংশও তার ওপর ক্ষব্ধ।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন ও বিধবা নারী আছমা বেগমের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি সরাফত উল্লাহ, পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল হোসেন ও এসআই ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি। দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও সরকারি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করায় অভিযুক্ত তিনজনকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা থেকে প্রত্যাহার করার জন্য জেলা পুলিশ সুপার বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এর ভিত্তিতে অভিযুক্ত ওসিসহ তিন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয় ।

গত ৬ই মে শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের হানিফ খান মিলনায়তনে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকার মৃত হোসেন আলী সাউদের স্ত্রী আছমা বেগম সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, তার বাবার ওয়ারিশ সূত্রে সিদ্ধিরগঞ্জে ৪৯ দশমিক ৫০ শতাংশ সম্পত্তি আমরা ৭ ভাই বোন ভোগ করে আসছি।  সিদ্ধিরগঞ্জ বাজার এলাকা আব্দুল্লাহ আল মামুনের ছেলে সাকিব বিন মাহমুদ (৫০), মো. মহসিন ও মৃত নূর মোহাম্মদের ছেলে মনির জোর করে ওই সম্পত্তি দখলে নেয়ার চেষ্টা করে।
পরে গত ২৫শে এপ্রিল আদালতে পিটিশন দায়ের করা করা হলে আদালত ভূমিতে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসিকে আদেশ দেন। আমি আদেশের নথি নিয়ে ওইদিন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি সরাফত উল্লাহর সঙ্গে দেখা করতে গেলে উল্টো আমার সঙ্গে অশোভন আচরণ করে থানা থেকে বের করে দেয়। পরে জানতে পারি ওসি আগে থেকেই আসামিদের থেকে ১৮ লাখ টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ ছিল। পর দিন ২৬শে এপ্রিল সকাল ১০টায় আমি আদালতের আদেশ নিয়ে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল হোসেনের সঙ্গে দেখা করলে তিনি ওই আদেশ রাখার জন্য আমার কাছে ২ হাজার টাকা গ্রহণ করেন।
এ ছাড়াও এসআই জাহাঙ্গীর আলম আমার ভাই আলীর কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা নিয়ে নালিশা ভূমিতে আসামিদের কাজ বন্ধ করে দেন। কিন্তু ২ থেকে ৩ মিনিট পর থানার অপর এসআই ফারুক এসে আমার ভাই মো. আলী সহ ওমর ফারুক ও ইমরানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তখন তাদের ছেড়ে দিতে এসআই ফারুক ৫০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করে এবং ওইদিন রাত ১১টায় থানার ওসির সঙ্গে দেখা করতে বলে।
পরে আমি রাত সাড়ে ১১টায় ৫০ হাজার টাকা সহ আমার বাড়ির কর্মচারী দেলোয়ারকে থানায় পাঠাই। ওমর ফারুক সেই টাকা গ্রহণ করে। এদিকে মিথ্যে মামলায় ১৯ দিন জেল খেটে গত ১৬ই মে জামিনে মুক্ত হয় ওই বিধবার ভাই মো. আলী ও তার মেয়ের জামাতার কর্মচারী ওমর ফারুক ও ইমরান।

  • তথ্য সুত্র – সিদ্ধিরঞ্জ ডট কম  ও প্রথম আলো ও মানব্জমিন

Aziz Tarak

King In My Kingdom & Don't mess with me, Always I don't act like a Gentlemen.

You may also like...

%d bloggers like this: