ইয়াবার ভয়াল গ্রাসে সিদ্ধিরগঞ্জ – শেয়ার করুণ

yaba-siddhirganj

বিষাক্ত মরন নেশা ইয়াবার ছোবলে আক্রান্ত  আমাদের সিদ্ধিরগঞ্জ ।

থানা এলাকায় মাদকের প্রসার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিটি পাড়ামহল্লায় অবাধে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা। দিন দিন বেড়েই চলেছে ইয়াবা সেবীদের সংখ্যা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় কমপক্ষে পাচ শতাধিক  নারী-পুরুষ গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইন, মদ, ইয়াবসহ মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। থানার এমন কোন এলাকা বাদ নেই, যে এলাকাতে ইয়াবার বিক্রি হচ্ছেনা।

অনেকের কাছে ইয়াবা বিক্রি করা একটি নতুন অর্থ উপার্জনের একটি সহজ উৎস বলে জানা যাচ্ছে । আটি , ওয়াপদা কলোনির  দিন মজুর সর্দার এর ছেলে  রাসেল (  ছেঁচড়া রাসেল  ) ইয়াবা বিক্রির টাকায় কিছুদিন আগে ধুম ধাম করে বিয়ে করেছে বলে জানা যায় ।  অনেক উঠতি বয়সের ছেলে পেলে নতুন ইয়াবা বিক্রির ব্যাবসা শুরু করেছে বিভিন্ন যায়গায় ।

ইয়াবার অবাধ ছড়াছড়িতে যে কেউ হাত বাড়ালেই পেয়ে যাচ্ছে  । ইয়াবার দাম মাত্র যেখানে ১৫০ টাকা ।   স্কুল  কলেজ পড়–য়া ছাত্ররাও ঝুঁকে পড়েছে ইয়াবা সেবনে। এলাকাবাসীর অভিযোগ স্থানীয় প্রশাসন মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন না করায় প্রকাশ্যে দাপটের সাথে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা।

সম্প্রতি  ইয়াবার কয়েকটি নমুনা সংগ্রহ করে সরবরাহকারীদের ধরতে অভিযান শুরু করেছে ডিবি পুলিশ। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) দক্ষিণের অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও প্রতিরোধ ইউনিটের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. আসাদুজ্জামান বাংলানিউজকে জানান, কয়েকমাস আগে রাজধানীর বাসাবো থেকে বিপুলসংখ্যক ইয়াবা উদ্ধার করার পর ল্যাব টেস্ট করা হয়। এতে দেখা যায়, এগুলো জন্মবিরতিকরণ পিল।

শুধু তাই নয়, ইয়াবার নামে অনেক সময় ঘুমের ওষুধ বিক্রি করা হয়। ডিবি পুলিশের (উত্তর) অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও প্রতিরোধ ইউনিটের এসি একেএম মাহবুবুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, ঘুমের ওষুধে লাল রং দিয়ে ডব্লিউওয়াই (WY) লিখে বাজারে বিক্রি করে। মাত্র ৫০ টাকার এসব ইয়াবা পাওয়া যায় ।

নিয়মিত ইয়াবা গ্রহণ করেন  এমন একজন  বিডিনিউজনেট কে জানান, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিশেষ করে যারা আগে কখনো ইয়াবা খায়নি তাদের কাছে এটি বিক্রি করা হয়। অপরিচিত ও নতুন গ্রাহককে এসব নকল ইয়াবা দিয়ে প্রতারণা করা হয় বলে জানান তিনি।

 

 

তাছাড়া মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে স্থানীয় প্রশাসনেরও রয়েছে কিছুটা সখ্যতা।অল্প কিছু  প্রশাসনের কর্মকর্তারা পাচ্ছে নিয়মিত মাসোহারা।কিন্তু তাই বলে সবাই  দুরনিতিগ্রস্থ নয় ।  পর্যবেক্ষক মহলের মতে, মাদকের আগ্রাশনের কারণেই থানা এলাকায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, খুন, ধর্ষনসহ অপরাধ মুলক কর্মকান্ড ব্যপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। দিন দিন আইনশৃংখলার পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।


এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইয়াবা ব্যবসার প্রতিবাদ করলে বিভিন্নভাবে হয়রানীর শিকার হতে হয়। ইয়াবা বিক্রেতাদের শেল্টারদাতা সন্ত্রাসী ব্যক্তিদের নির্যাতন হুমকি ধামকি মাদক বিক্রেতাদের সাজানো মিথ্যা মামলার আসামী হয়ে পুলিশী হয়রানীসহ নানা ঝামেলায় পরতে হয় প্রতিবাদকারীর। যে কারণে ভয়ে কেহ প্রতিবাদ করেনা।

কিছু পুলিশের সাথে মাদক বিক্রেতাদের গোপন আঁতাত থাকায় পুলিশ তদন্ত ছাড়াই প্রতিবাদকারীর বিরুদ্ধে মাদক বিক্রেতাদের সাজানো মিথ্যা মামলা রুজু করে গ্রেফতার অভিযান শুরু করে দেয়। ফলে মাদক ব্যবসায়ীরা কাউকে পাত্তা দিচ্ছেনা।

তবে এলাকাবাসিদের মধ্যে প্রতিবাদী তরুণরা একসাথে হলেই মাদক এবং ইয়াবা বিক্রি বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা ।

স্বাস্থ্যগত সমস্যা

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. তাজুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘বাংলাদেশে এখন ইয়াবাসেবী তরুণের সংখ্যা ৪০ লাখের কম নয়৷ এথেকেই প্রতিদিন বাংলাদেশে ইয়াবা ব্যবহারের পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা করা সম্ভব৷”

তিনি জানান, ‘‘এখন চিকিৎসা নিতে আসা মাদকসেবীদের ৮০ ভাগই ইয়াবা আসক্ত৷ এরা বয়সে তরুণ এবং অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছল ঘরের সন্তান৷ তরুণীরাও এই মাদক গ্রহণ করছেন৷” ডা. ইসলাম বলেন, ‘‘ইয়াবা সেবনে শরীরে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া হয়৷ সেবনের পর প্রথমে মনে হয় শরীরে অনেক শক্তি এসেছে, সব ক্লান্তি কেটে গেছে৷ এটি একটি উত্তেজক মাদক৷ দীর্ঘমেয়াদে এটি পুরো স্নায়ুতন্ত্রের ওপর প্রচণ্ড খারাপ প্রভাব ফেলে৷ স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কাঠামো ও কার্যক্রম নষ্ট করে দেয়৷ এ ধরনের মাদকের প্রভাবে অনেক সময় মানুষ বদ্ধ পাগলের মতো আচরণ করে (সাইকোসিস সিনড্রম)৷

এর ফলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের (স্ট্রোক) ঝুঁকিও তৈরি হয়৷ছেলেদের শরীরে উপরেও ইয়াবার মারাত্মক প্রভাব পড়ে। নিয়মিত সেবনে পিঠে ব্যথা, পিঠ গোলাকার হয়ে যাওয়া, শরীরের বিভিন্ন হাড় ও জোড়ায় ব্যথা, সামান্য আঘাতে হাড় ভেঙে যাওয়ার মতো জটিল সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে জানান তিনি।

মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করতে জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল।sid

Aziz Tarak

King In My Kingdom & Don't mess with me, Always I don't act like a Gentlemen.

You may also like...

%d bloggers like this: